জাতীয় ডেস্ক
অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের বিপরীতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এখন থেকে সরাসরি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করতে পারবেন। নাগরিকদের সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষা সনদের অনলাইন সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির এখতিয়ার পাবেন। তবে শিক্ষা সনদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রাসঙ্গিক দলিলাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
পরিপত্রে আবেদনের সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দিয়ে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং একই সঙ্গে জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজ নাম ও বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিল আবেদনগুলো কেবল জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া এনআইডি জালিয়াতি বা অপব্যবহার রোধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনো নাগরিকের জন্মতারিখ, নিজ নাম এবং বাবা-মায়ের নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই তথ্যক্ষেত্রে (ফিল্ডে) দ্বিতীয়বার আর কোনো সংশোধন গ্রহণযোগ্য হবে না।
তথ্যপ্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আবেদন অনুমোদন বা বাতিলের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) আবেদন নিষ্পত্তির সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আবেদন গ্রহণ বা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ বা মন্তব্য নোট হিসেবে আবশ্যিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। এতে করে পরবর্তীতে প্রতিটি আবেদনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা তদারকিতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর বিশেষ তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষায় দ্বৈবচয়নের (র্যান্ডম স্যাম্পলিং) ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রতিটি নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার সম্পন্ন করা অন্তত তিনটি আবেদন গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে যে সিদ্ধান্তগুলো বিধি অনুযায়ী সঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে কিনা।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও বিলম্ব নিরসনে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো থেকেই সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পাবেন। একই সাথে তদারকি জোরদার ও দ্বিতীয়বার সংশোধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে এনআইডি ডাটাবেজের নিরাপত্তা ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকবে।


