ডিআর কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব: আক্রান্ত ছাড়াল ৫ হাজার, মৃত আড়াই হাজার

ডিআর কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব: আক্রান্ত ছাড়াল ৫ হাজার, মৃত আড়াই হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলা প্রাদুর্ভাব। দেশটিতে চলমান এই মহামারীতে ইতোমধ্যে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ ইবোলা সমন্বয়ক জুলিয়েন হারনেইস সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুনিয়া থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, যাকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন। আক্রান্তের এই সংখ্যা দেশটির ইতিহাসে যেকোনো সময়ের ইবোলা মহামারী রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভৌগোলিক দিক থেকেও এই ভাইরাসের বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কঙ্গোর উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সংঘাতকবলিত ওই অঞ্চলে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা থাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে বুন্দিবাগুজো (Bundibugyo) নামের ইবোলা ভাইরাসের একটি ভিন্ন স্ট্রেন বা প্রজাতি কাজ করছে। অতীতে সাধারণত জাইরে (Zaire) স্ট্রেনের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও, এবারের নির্দিষ্ট স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পূর্বে অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক চিকিৎসাব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি কঙ্গোর সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমিত লজিস্টিক সুবিধা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতার অভাব ভাইরাসের বিস্তার রোধে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই সংকট কেবল ইবোলা আক্রান্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রসূতি ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবিলম্বে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে দক্ষ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা না গেলে এই মহামারী কেবল কঙ্গোর ভেতরেই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মহামারী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ