খেলাধুলা ডেস্ক
দীর্ঘ আড়াই দশক পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল কভেন্ট্রি সিটি। তবে মর্যাদার এই টুর্নামেন্টে তাদের প্রত্যাবর্তনটা সুখের হলো না। ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নতুন মৌসুমের শিরোপা ধরে রাখার মিশন সফলভাবে শুরু করেছে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গানারদের হয়ে গোলগুলো করেন কাই হাভার্টজ, বুকায়ো সাকা এবং মার্টিন ওডেগার্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে தொடர்ச்சী চাপ সৃষ্টি করে ম্যাচের ১৫ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ডিফেন্ডার রিকার্ডো ক্যালাফিওরির নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার এক শটে আর্সেনালকে লিড এনে দেন জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। কভেন্ট্রি ডিফেন্ডারদের ভুলে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছয় গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান ইংলিশ উইঙ্গার বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধে ২-০ গোলের পরিষ্কার লিড নিয়েই বিরতিতে যায় গানাররা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও নিজেদের আগ্রাসী মানসিকতা বজায় রাখে আর্সেনাল। খেলা শুরুর মাত্র চার মিনিটের মাথায় কভেন্ট্রির জালে তৃতীয়বার বল জড়ায় স্বাগতিকরা। ৪৯ মিনিটে ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের বাড়ানো পাস ডি-বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোল করতে ভুল করেননি আর্সেনাল অধিনায়ক ও মার্টিন ওডেগার্ড। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার জন্য কিছু আক্রমণ চালায় ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের কভেন্ট্রি সিটি। তবে আর্সেনালের রক্ষণ দেয়াল ভেদ করতে ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। প্রিমিয়ার লিগে এটি তার কোচিং ক্যারিয়ারের ১৫০তম জয়। এর আগে এই অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন পেপ গার্দিওলা, হোসে মরিনহো, ইয়ুর্গেন ক্লপ এবং স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতো কিংবদন্তি কোচেরা। দীর্ঘদিন পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা কভেন্ট্রি সিটির জন্য এই ম্যাচটি বড় ধরনের একটি ধাক্কা হলেও, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল তাদের শিরোপা ধরে রাখার যাত্রায় শুরুতেই আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার বার্তা দিল।


