রাজনীতি ডেস্ক
সংযুক্ত দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা পদ পরিবর্তন করে নতুনভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সাংবিধানিক নিয়ম ও মন্ত্রিপরিষদের বিধিমালা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত কিছুদিন ধরে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কাজের গতিশীলতা আনার জন্য প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এই মন্ত্রীপর্যায়ে পরিবর্তন এল। বিশেষ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার অংশ হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আফরোজা খানম রিতা এর আগে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তাকে দেশের অন্যতম সংবেদনশীল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো, যা সার্বিক খাদ্যপণ্য সরবরাহ চেইন, মজুদ ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এতদিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়াগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ফলে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বিমান চলাচল খাত এবং পর্যটন শিল্পের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে। দেশের পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাসমূহের সেবার মানোন্নয়নে নতুন মন্ত্রী বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, মন্ত্রিসভার বর্তমান কাঠামোতে অন্যান্য দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও কিছু বিন্যাস রয়েছে। বর্তমান প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. আব্দুল বারী খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। জনপ্রশাসন ও খাদ্য—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একত্রে সামলানোর ক্ষেত্রে তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিপরিষদের এই রদবদল সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নতুন গতিশীলতা আনবে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন মন্ত্রী কতটা সফল হন, সেটির ওপর নির্ভর করবে খাদ্য খাতের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি। একইভাবে, এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাতের আধুনিকায়ন এবং বৈদেশিক পর্যটক আকর্ষণে নতুন মন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপগুলোও সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই ধরনের নিয়মিত প্রশাসনিক সমন্বয় ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ খুব শীঘ্রই নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


