জরিমানা ছাড়া যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদের সুযোগ বাড়ল ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত

জরিমানা ছাড়া যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদের সুযোগ বাড়ল ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত

জাতীয় ডেস্ক
জরিমানা ছাড়া শুধু মূল কর ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ সুযোগ পাবেন মোটরযান মালিক ও চালকেরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এটিই শেষবারের মতো সময়সীমা বৃদ্ধির সুযোগ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটিতে উল্লেখ করা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় খেলাপি বা মেয়াদোত্তীর্ণ সব ধরনের মোটরযানের ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স-টোকেন, রুট পারমিট এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কোনো প্রকার অতিরিক্ত জরিমানা ছাড়া কেবল মূল ফি ও সরকারি কর জমা দিয়ে নবায়ন বা হালনাগাদ করা যাবে।
সাধারণত মোটরযানের প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করতে গেলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে যানবাহন মালিক ও চালকদের সুবিধার্থে এবং নথিপত্র হালনাগাদ কার্যক্রমে গতি আনতে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই বিলম্ব জরিমানা মওকুফের সুবিধা দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপুলসংখ্যক মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের কাগজপত্র বৈধ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা একদিকে সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়তা করবে এবং অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জরিমানা মওকুফের এই সুযোগের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া থাকা যানবাহনের মালিকরা স্বাভাবিক নিয়মে ফি দিয়ে তাঁদের গাড়ির বৈধতা নিশ্চিত করতে পারবেন। এর ফলে যেসব যানবাহন দীর্ঘদিন নথিপত্র হালনাগাদ না থাকায় সড়কে চলাচলে আইনগত জটিলতায় পড়ছিল, সেগুলোর চালক ও মালিকরা কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটিই জরিমানা ছাড়া কাগজপত্র হালনাগাদ করার সর্বশেষ সুযোগ। ফলে নির্ধারিত তারিখের পর আর কোনো সময় বাড়ানো হবে না। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা নির্ধারিত ব্যাংকে গিয়ে ফি ও কর জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নবায়নের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী বকেয়া কর ও নিয়মিত জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সার্বিকভাবে, পরিবহন খাতকে নিয়মের আওতায় আনতে এবং সড়কে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ কাগজপত্রযুক্ত যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে এ উদ্যোগকে একটি চূড়ান্ত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। যানবাহন মালিক, চালক ও পরিবহন সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সুযোগ গ্রহণ করে সড়ক আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ