রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলা ও হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পশ্চিমা মিত্ররা

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলা ও হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পশ্চিমা মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কিয়েভে জড়ো হওয়া পশ্চিমা দেশের শীর্ষ নেতারা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলা ও হুমকি উপেক্ষা করে ইউক্রেনকে সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ইউক্রেনকে সহায়তাকারী ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর ৩০ জন নেতার অংশগ্রহণে কিয়েভে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফ্রান্স ও জার্মানির জ্যেষ্ঠ নেতাদের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সশরীরে কিয়েভে উপস্থিত থেকে অংশ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। এছাড়াও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্তাসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক কিয়েভ সফর করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাশিয়ার পক্ষ থেকে যতই নিন্দা ও হুমকি আসুক না কেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষায় তাদের সহায়তা কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না।
সম্প্রতি কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় রাজধানী কিয়েভের আবাসিক ভবনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসের তুলনায় বর্তমানে ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর সংখ্যা অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, চেরনিহিভ ও ইজিউমসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ গোলাবর্ষণ এবং ড্রোন হামলায় বহু সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিশেষ ভাষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বলে উল্লেখ করেন। তবে পারস্পরিক ঐক্য ও দৃঢ় সংকল্পই তাদের মূল শক্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন। মিত্র নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে ইউক্রেন নিজ দেশেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে চায়, যার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম এ সময় জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া যে ভূখণ্ড দখল করতে পারেনি, ইউক্রেন তা কখনো ছাড়বে না এবং যেকোনো শান্তি আলোচনা বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারির অবস্থান থেকেই শুরু হতে হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা করা থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিবৃত্ত করতে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে মস্কো।
এদিকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। ৯০ বিলিয়ন ইউরোর একটি বৃহত্তর ঋণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে, যার সিংহভাগই ব্যয় হবে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে।
কিয়েভে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রাক্কালে ইউক্রেনীয় বাহিনীও রুশ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ জোরদার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে দক্ষিণ রাশিয়ার ওজোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের একাধিক গুদাম ও স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিতে কয়েকটি স্থাপনা খালি করতে বাধ্য হয় রুশ কর্তৃপক্ষ। চলমান এই দ্বিমুখী সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ