স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সব স্তরে ডিজিটাল হাজিরা চালুর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা বাড়ার প্রত্যাশা

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সব স্তরে ডিজিটাল হাজিরা চালুর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা বাড়ার প্রত্যাশা

বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার লক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফেস রিকগনিশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ক্লাউডভিত্তিক অনলাইন ড্যাশবোর্ড সংবলিত ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক চিঠি জারি করা হয়। দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আধুনিক হাজিরা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই আধুনিক ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার জন্য তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেরিতে অফিসে আসা কিংবা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম রোধ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতেই এই ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই নতুন ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থায় ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখাবয়ব শনাক্তকরণ বা ফেস রিকগনিশন এবং আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। ফলে একজনের হাজিরা অন্য কারও দিয়ে দেওয়ার বা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে এই হাজিরা ব্যবস্থা একটি ক্লাউডভিত্তিক অনলাইন ড্যাশবোর্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেকোনো স্থান থেকেই রিয়েল-টাইম হাজিরা তথ্য পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মাঠপর্যায়ের এসব অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে না পাওয়ার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এই আধুনিক প্রযুক্তি চালুর ফলে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা যেমন সুদৃঢ় হবে, তেমনি সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সার্বিক এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন প্রতিষ্ঠাও সহজ হবে বলে মনে করছেন নীতির্ধারকরা।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ