জাতীয় ডেস্ক
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসের মেয়াদে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফলভাবে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধের পর দ্রুততম ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। বক্তারা বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং দেশে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায় এবং অন্ন, বস্ত্রসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সরকার এগিয়ে চলেছে। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও জীবনের শিক্ষা অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি দেশবাসীকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই ঘোষণা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে জনমনে স্বস্তি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


