অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট নিয়ে শঙ্কা কিছুটা কমেছে।
বুধবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই জ্বালানি তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পায়। এর আগের কার্যদিবসেও উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল, যা গত দুই দিনে তেলের বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৭৮ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে মঙ্গলবারও বাজারজুড়ে তেলের দরপতন অব্যাহত ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এবং কৌশলগত নৌপথ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এই রুটটি বন্ধ থাকা বা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমান এই কৌশলগত নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করতে যৌথ নেভিগেশন করিডোর চালুর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রণালির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জমে থাকা মাইন অপসারণের উদ্যোগও তেলের বাজারকে শান্ত করতে ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা তেলের সরবরাহ সংকট কাটাতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনলেও বাজারে পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরতে আরও সময় লাগবে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রণালির সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আগামী দিনে ইরান ও ওমান আলোচনার মাধ্যমে কতটা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে।


