ছয় মাসে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয়, খাল পুনঃখননে বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে অপপ্রচারের জবাব পানিসম্পদের

ছয় মাসে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয়, খাল পুনঃখননে বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে অপপ্রচারের জবাব পানিসম্পদের

বাংলাদেশ ডেস্ক
সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দেশের সকল উন্নয়ন বা সংস্কার কাজ রাতারাতি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করার আগে বিরোধী দলগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করা উচিত। দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সময় ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখার প্রয়োজন রয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় রহমতখালী খালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জেলা কৃষকদলের যৌথ উদ্যোগে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের পানিসম্পদ খাতের সব সমস্যার সমাধান করা বা সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করা অবাস্তব। সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে, যা একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এত অল্প সময়ে এই বিশাল প্রকল্পের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে আশা করা বা এ নিয়ে অবাস্তব সমালোচনা করা সমীচীন নয়। বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছয় মাসের মাথায় লংমার্চ বা নানা ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার আগে সরকারের কাজের পরিধি ও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা উচিত। বর্তমান প্রশাসন কোনো লোক দেখানো বা ফটোসেশনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং জনকল্যাণমূলক ও টেকসই কাজের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।
খাল পুনঃখনন প্রকল্পের নেপথ্য প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে, জলাবদ্ধতা নিরসন করতে এবং পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে অনেকেই নিজেদের দূরদর্শী নেতা হিসেবে দাবি করলেও দেশের অবহেলিত পানিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এমন কোনো সুদূরপ্রসারী ও বড় পরিকল্পনা কেউ বাস্তবায়ন করেননি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও দিকনির্দেশনায় এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল পুনঃখননের সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। এর ফলে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে জলাবদ্ধতা দূর হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সহজতর হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে পানি ব্যবস্থাপনা একটি অন্যতম প্রধান নিয়ামক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে দেশের অধিকাংশ নদী, নালা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট তীব্র আকার ধারণ করত। বর্তমান সরকারের এই ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত প্রকল্প সফল করতে দীর্ঘমেয়াদী তদারকি, পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং মাঠপর্যায়ে যথাযথ মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, এবং জেলা কৃষকদলের সভাপতি মাহাবুব আলম মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ