স্থানীয সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়েছে জামায়াত

স্থানীয সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়েছে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করেছে, তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষকদের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে দলটি দাবি জানিয়েছে, অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখতে হবে।

বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

ইসির সদ্য গৃহীত নীতিমালার সমালোচনা করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল জানায়, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি কোনো বাধা নেই। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাঁদের প্রার্থী হওয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্ববিরোধী ও বৈষম্যমূলক বলে মনে করছে দলটি। সাধারণ নাগরিক হিসেবে মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে ইসির এ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জোর দাবি জানানো হয়।

বৈঠকের সার্বিক বিষয় তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল জানান, কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে এবং ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কমিশন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে শিক্ষকদের ভোটাধিকার ও প্রার্থিতার পথ উন্মুক্ত রাখবে।

একই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জামায়াত। বিশেষ করে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জোরালো দাবি জানায় দলটি। জামায়াত নেতাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করতে পারে এবং তা ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ