ব্র্যাক ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা, প্রথমার্ধে আয় ১,৪২৩ কোটি টাকা

ব্র্যাক ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা, প্রথমার্ধে আয় ১,৪২৩ কোটি টাকা

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৬ হিসাববছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। মূলত সুদ থেকে অর্জিত নিট আয় এবং বিনিয়োগের মুনাফা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির ফলেই এই স্মরণীয় প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসাম্প্রতিক অনুমোদিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা রেকর্ড নিট মুনাফা অর্জন করেছিল। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ব্যাংকটি গত বছরের মোট মুনাফার ৬৩ শতাংশের বেশি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমার্ধে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা, যা বিগত বছরের প্রথম ছয় মাসে ছিল ৩ টাকা ৯ পয়সা। পাশাপাশি শেয়ারধারীদের সম্পদের মূল্যমান ও ভিত্তিরও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সায়। বিগত বছরের একই সময়ে ব্যাংকের এনএভি ছিল ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বৃদ্ধি এবং সরকারি সিকিউরিটিজের পুনর্মূল্যায়ন থেকে অর্জিত রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই তিন মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়। কেবল দ্বিতীয় প্রান্তিকেই ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত এই ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও (এনওসিএফপিএস) ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাজারে ব্যাংকটির ওপর গ্রাহকদের আস্থা বজায় থাকায় আমানত সংগ্রহের হার বেড়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তহবিল সংগ্রহ সহজ হওয়ায় এবং সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার ফলে নগদ প্রবাহের এ সূচকটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সূচিত হয়েছে।

দেশের ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্র্যাক ব্যাংকের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং সেবার ধারাবাহিক নেতৃত্ব প্রদান, আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার কৌশলগত বিস্তার এবং বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সুদের মার্জিন দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করার কারণে অর্ধবার্ষিক ফলাফলেই এই বিশাল প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

উৎপাদনশীল খাত ও উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের রিটার্ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বমোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর আগের বছর ২০২৪ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ সহ মোট ২৫ শতাংশ এবং ২০২৩ সালেও ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ বণ্টন করেছিল ব্র্যাক ব্যাংক। ধারাবাহিক আর্থিক সাফল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ব্যাংকটির শেয়ারকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম বিশ্বস্ত ও আকর্ষণীয় মাধ্যম হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ