আইন ও আদালত ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশের এ আবেদন গ্রহণ করে আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।
আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গতকাল আদালতে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে উত্তরা পশ্চিম থানার ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন আবেদনটি নথিভুক্ত করে পরবর্তী আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে পেশ করা পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি বর্তমানে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তাঁকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখারও আবেদন জানানো হয়েছে।
সংবাদসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসভবন থেকে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সেদিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে কলিমুল্লাহর জামিন মঞ্জুর হয়। গত সোমবার উক্ত মামলায় তাঁর পক্ষে জামিননামা দাখিল করা হয়। ১ লাখ টাকার মুচলেকা ও নিজ পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্ত পূরণ করায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না বলে জানান তাঁর আইনজীবীরা। তবে নতুন করে উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হলে তাঁর কারামুক্তি স্থগিত হয়ে যাবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে উত্তরা পশ্চিম থানার রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থান করছিলেন মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামের এক আন্দোলনকারী। অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন সরকারের সমর্থক ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় একটি গুলি সাব্বিরের বাঁ হাতের কনুইয়ে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং একই ঘটনায় আরও একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
আহত সাব্বিরকে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ বর্তমানে মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।


