অপরাধ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালনা করা বিশেষ অভিযানে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন, ধারালো অস্ত্র এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের এই অভিযানে এক ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সামগ্রিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোট ২৭টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মহানগরের বিভিন্ন বিভাগীয় এলাকায় নিয়মিত ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত এক দিনে চালানো এসব অভিযানে চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি, সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য ও বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, ডিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগে পরিচালিত এ অভিযানে সর্বোচ্চসংখ্যক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে মিরপুর বিভাগে। থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, মিরপুর বিভাগ এলাকা থেকে ১২২ জন এবং মতিঝিল বিভাগ এলাকা থেকে ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা বিভাগে ৪৯ জন, তেজগাঁও ও গুলশান বিভাগে ৩৮ জন করে, ওয়ারী বিভাগে ৩৬ জন, রমনা বিভাগে ২৭ জন এবং লালবাগ বিভাগে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে নিজ নিজ থানা পুলিশ। পাশাপাশি ডিএমপির ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে।
অভিযানকালে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৪ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৯৪০ পিস ইয়াবা। এসব মাদকের পাশাপাশি অপরাধীদের তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে ৩০টি মোবাইল ফোন, ৩টি ধারালো চাকু, একটি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র (স্টান গান) এবং ৩টি পরিত্যক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চোরাই ও অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ১টি মিশুক গাড়ি এবং ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অভিযানকালে বিশেষ পরিস্থিতিতে এক ভিকটিমকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ এলাকার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন এবং প্রচলিত অন্যান্য ফৌজদারি আইনে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এসব মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারালয়ে সোপর্দ করার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাত চক্র ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ডিএমপির এই ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা মহানগরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে অপরাধীদের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্রের মতো বিপজ্জনক সরঞ্জাম জব্দ হওয়ায় ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদক প্রমাণ করে যে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের চিরুনি অভিযান অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং জনমনে নিরাপত্তার অনুভূতি জোরদার করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জোর দিয়ে বলেন, মহানগরের সর্বস্তরের নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় ডিএমপির প্রতিটি বিভাগ ও গোয়েন্দা টিম সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে থানা পুলিশের টহল এবং বিশেষ তল্লাশি আরও জোরদার করা হবে। একই সাথে যেকোনো ধরনের সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশকে জানানোর জন্য ঢাকা নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে পুলিশের এই সমন্বিত ও কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।


