শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ডেস্ক
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ও মেধা তালিকার সূচকে বৈচিত্র্য দেখা গেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে, যেসকল বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এই তালিকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮টি।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছর সর্বমোট পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। প্রকাশিত এই ফলাফলে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হারে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৭.৯১ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৯.৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪৯ শতাংশে।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল।
পরীক্ষার সময়সূচি ও ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। উল্লিখিত শিক্ষাবর্ষের লিখিত পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ২০ মে শেষ হয়। এছাড়া দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয় ২৪ মে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা বা রীতি থাকলেও, সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লেগেছে। ২০ জুলাই সম্ভাব্য তারিখ থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হলো।
ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে বা পুনর্মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে চাইলে অনলাইনে ‘ফল পুনর্নিরীক্ষণ’-এর আবেদন করতে পারবে। ১১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি এবং ফি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার্বিক পাসের হারের পাশাপাশি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেগুলোর পেছনে একাডেমিক তদারকির অভাব এবং প্রান্তিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট প্রধান কারণ হতে পারে। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের পর ফল প্রকাশ এবং সামগ্রিক পাসের হারের এই চিত্র দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের মূল একাডেমিক নথি বিতরণ এবং একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে।


