এসএসসি ও সমমানের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চালু হচ্ছে

এসএসসি ও সমমানের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চালু হচ্ছে

শিক্ষা ডেস্ক

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র সম্পূর্ণ পুনর্মূল্যায়নের (রি-ইভ্যালুয়েশন) সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে এখন থেকে খাতা কেবল পুনরায় গণনা বা পুনর্নিরীক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রয়োজনবোধে পুরো উত্তরপত্র দ্বিতীয়বার মূল্যায়ন করে কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করা হবে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের মেধা ও প্রস্তুতির যথার্থ প্রতিফলন পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রচলিত নিয়মে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। ১৯৯৮ সালের শিক্ষা বোর্ডের বিধান অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা পুনরায় পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট সুবিধা ছিল না। এতদিন কেবল নম্বর গণনা, প্রতিটি প্রশ্নের বিপরীতে নম্বর প্রদান বাদ পড়েছে কি না কিংবা উত্তরপত্রের মোট নম্বরের যোগফলে কোনো ভুল রয়েছে কি না—এসব প্রযুক্তিগত বিষয়ই পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার আওতায় যাচাই করা হতো। বর্তমানে বিদ্যমান বিধিমালার আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যাতে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সার্বিকভাবে এবং শতভাগ পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকে।

উদ্যোগটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল পায় না। মূল্যায়নে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বা অসাবধানতা থাকলে তা সংশোধন করা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি। নতুন নিয়মের অধীনে যেসকল শিক্ষার্থী পুনঃপরীক্ষণের আবেদন জানাবে, তাদের খাতা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে এবং মূল্যায়নে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে বোর্ড কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সংশোধনে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সারাদেশে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

বিগত বছরের ফলাফলের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, এবার পাসের হার ও সর্বোচ্চ মেধা অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। গত বছর সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে এ বছর সার্বিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ বিশেষ বিভাগগুলোর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় এবার পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে ৫৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিশেষ করে এবারো সার্বিক ফলাফলের মেধা তালিকায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা তাদের এগিয়ে থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের এই নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দায়বদ্ধতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে পরীক্ষকদের ব্যক্তিগত অসাবধানতার কারণে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং সার্বিক শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও জোরদার হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ