গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ৩ দিনের রিমান্ডে

গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ৩ দিনের রিমান্ডে

আইন আদালত ডেস্ক

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।

সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১১ নম্বর আদালতে আসামি আখতারুজ্জামানকে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। আবেদনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে তার জামিন প্রার্থনা করেন। দুই পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক আরিফুল ইসলাম সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সাবেক এই সংসদ সদস্যের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর দিন ৬ আগস্ট তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন আদালত তাকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রের তথ্যমতে, গত ১৮ জুন সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা সরকারবিরোধী তীব্র স্লোগান দেন এবং পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। এই রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানের এই রিমান্ড মঞ্জুরের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো সংবেদনশীল মামলায় উচ্চপর্যায়ের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে ওই ঘটনার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী, ইন্ধনদাতা ও আর্থিক জোগানদাতাদের চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে মহাখালী এলাকার সেই ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অন্য কারা সরাসরি জড়িত ছিল, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনানুযায়ী রিমান্ডের নির্ধারিত সময়ে আসামিকে কড়া হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সংগৃহীত আলামত ও অন্যান্য আসামিদের তথ্যের সঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্যের বক্তব্য মিলিয়ে দেখে মামলার পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর আসামিকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ