বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর দূরপ্রাচ্যের দেশ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে এক বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় জানান, সালমান শাহ কেবল তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল ও প্রিয় সহশিল্পী ছিলেন না, বরং তিনি তাঁকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। প্রয়াত এই অভিনেতার মর্মান্তিক মৃত্যুর সাথে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর এমন মনগড়া বক্তব্য ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বিতর্কিত ব্যক্তি রিজভী আহমেদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে শাবনূর স্পষ্ট করেন যে, তাঁর সাথে উক্ত ব্যক্তির কখনোই সরাসরি দেখা বা পরিচিতি ছিল না। কথিত ওই ব্যক্তি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশে তাঁদের বিয়ে ও পরবর্তী সময়ে বিচ্ছেদের যে অসংলগ্ন দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। শাবনূর জানান, ওই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি যুক্তরাজ্য সফরই করেননি। একই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন—কখনো নিজেকে মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে দাবি করছেন, আবার কখনো সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে অন্যকে দায়ী করছেন। কোনো একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় বা ব্যক্তিগত অসৎ উদ্দেশ্যে এই কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।
এদিকে সালমান শাহর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পর আবারও তাঁকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন শাবনূর। তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থানের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং সাধারণ ভক্ত-অনুরাগীদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন ও ভালোবাসা মিলেছে। সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢালিউডের কালজয়ী এই অভিনেত্রীর প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসভবন থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ছোট ক্যারিয়ারে ২৭টি বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হওয়া এই ক্ষণজন্মা নায়কের অকালমৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য ও আইনি টানাপোড়েন বিদ্যমান।
অন্যদিকে, প্রয়াত এই চিত্রনায়কের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরুর আবহেই মামলাটির অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি এবং ঢালিউডের খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করেছে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর মামলার অন্যতম আসামির এই গ্রেপ্তারের ঘটনা সালমান শাহ হত্যা মামলার দীর্ঘায়িত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


