রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ: ১১ দলীয় জোটের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ: ১১ দলীয় জোটের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

রাজনীতি ডেস্ক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা এএমএম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে জোটের এক প্রতিনিধিদল এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের সংস্কৃতি পরিহার করে দেশের সর্বোচ্চ পদে গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরির সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করল জোটটি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনে প্রাপ্ত মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সবকিছু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রার্থীরা মাঠে নামায় দীর্ঘদিন পর দেশে সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জোটের এই পদক্ষেপের পেছনে গণতান্ত্রিক ধারা চর্চা এবং রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থানের বিভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, জয় কিংবা পরাজয় এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখা, সংসদীয় সংস্কৃতিকে জীবিত রাখা এবং দেশের মানুষের সামনে বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করাই এই প্রার্থিতার মূল উদ্দেশ্য।

জোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জামায়াতের এই নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশে যদি সময়োচিত রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্কার সাধিত হতো, তবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মতো পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাজনীতিবিদ সর্বজনগ্রাহ্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে সমাসীন হতে পারতেন। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে ইতিবাচক ও আন্তরিক মানসিকতার অভাবে জাতি একজন যোগ্য ব্যক্তিত্বের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সাংবিধানিক রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। রাষ্ট্রের অভিভাবকতুল্য এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রপতির পদে যদি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তবে তা সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই গণতান্ত্রিক ধারায় গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকারের বিষয়েও জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের বর্তমান রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কারণে জাতীয় সংসদের সদস্যরা নিজ স্বাধীন বিবেচনায় ভোট দেওয়ার ক্ষমতা উপভোগ করতে পারছেন না। যদি পূর্বে ঘোষিত গণভোটের রায় কিংবা প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সংস্কারসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতো, তবে সংসদ সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারতেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ জনমতের প্রতিফলন ঘটত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনা আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে একক কেন্দ্রিকতার পরিবর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহে রূপ দিল। সংসদীয় প্রক্রিয়ার আওতায় এসে প্রার্থী মনোনয়ন এবং নীতিগত ভিন্নমত প্রকাশের এই চর্চা দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ