আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ৭.৪ মাত্রার এই কম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৫৭০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যমতে, সোমবার ভোরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে ভূগর্ভের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। তীব্র কম্পন অনুভূত হয় রাজধানী বোগোতাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে, যার ফলে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা রাস্তায় আশ্রয় নেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কফি উৎপাদনের জন্য খ্যাত রিসারালদা প্রদেশে। প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রিসারালদার রাজধানী পেরেইরাতে একটি বহুতল ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়ে পুরো এলাকা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এ ছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সার্বিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতেও ভূমিকম্প মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানান, ক্যালিতে অন্তত ৩০টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবন্ত উদ্ধার ও মৃতদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও রেডক্রসের বিশেষ দল কাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ইট-পাথর সরানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারী উদ্ধারকারী সরঞ্জামের তীব্র প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল চোকো প্রদেশের পরিস্থিতিও বেশ আশঙ্কাজনক। প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কেন্দ্র কুইবদিসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে অনেক এলাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। শক্তিশালী পরাঘাত বা আফটারশকের আশঙ্কায় উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকার অধিবাসীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ম্যানিজালেস শহরের ঐতিহাসিক একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের সুউচ্চ টাওয়ার কম্পনের ধাক্কায় ধসে পড়েছে। বেশ কিছু প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকের পর অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস অব কলম্বিয়া জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। সরকার এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই সরাসরি কেন্দ্রীয় বাজেট, উদ্ধার সরঞ্জাম, ওষুধ ও খাদ্য সহায়তা পাঠাতে পারছে। দুর্গম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট ও আকাশপথে তল্লাশি দল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোও জরুরি মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।


