জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হবে, ক্রাইসিস নিয়ে অপচেষ্টা সফল হবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হবে, ক্রাইসিস নিয়ে অপচেষ্টা সফল হবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই উত্তরণে বেসরকারি বিনিয়োগকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বিনিয়োগবান্ধব এবং বিশেষ করে শক্তি ও জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্যোগ ও সংকটময় মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, একটি মাত্র ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় দেশজুড়ে যে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, তা জাতীয় শিল্প ও জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া থেকে রক্ষা করতে দ্রুতই শিল্পমালিকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসবে সরকার। জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি শিল্প খাত যেন কোনো ধরনের অচলবস্থার মুখে না পড়ে, সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিগত সরকারের জ্বালানি খাতের নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে আর্থিক মুনাফাকেন্দ্রিক প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতি এবং সামগ্রিক জ্বালানি কাঠামোয় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা ও সংকট তৈরি হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণের কারণেই আজ খাতটি নাজুক অবস্থায় পড়েছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের বিষয়গুলো মাথায় রেখে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করতে হচ্ছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত কারণে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় এই খাতে বিকল্প ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, সৌরবিদ্যুৎ (সোলার এনার্জি) খাতের প্রসারে সরকার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তিকে কেবল একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে না দেখে একে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই বিগত দুই মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি যুগোপযোগী পলিসি বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং নতুন নীতিমালায় উল্লিখিত প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ‘ওপেক্স মডেল’ অনুসরণ করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে ব্যাপক পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং সেমিনারে উপস্থিত গবেষকরা মনে করেন, বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট একক কোনো সমাধানের মাধ্যমে উত্তরণ সম্ভব নয়। দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত বিস্তার এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল জ্বালানি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা সম্ভব। সরকারের এই নতুন কৌশল দ্রুততম সময়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হলে শিল্প খাতের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ