জাতীয় ডেস্ক
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য থাকে সর্বোচ্চ সেবার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেবার মান উন্নত করার স্বার্থে বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সব সময়ই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত। তবে সরকার গঠনের ১৮০ দিন পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন বা রদবদল আসার যে আলোচনা চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে গণমাধ্যমের তৈরি এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার গঠনের পরবর্তী অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকার গঠনের নির্দিষ্ট সময় পর মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়াতে পরিবর্তনের পথ সব সময়ই উন্মুক্ত থাকে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ বেঁধে দিয়ে আকস্মিক পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রিসভার কাজের ধারাবাহিক মূল্যায়ন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, মন্ত্রিপরিষদের কাজের সার্বিক মূল্যায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি ১৮০ দিন, এক বছর, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বছর—যেকোনো সময়েই হতে পারে। সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ে যদি প্রত্যাশিত গতি আনতে বা কাজের মান উন্নত করতে পরিবর্তন আবশ্যক মনে হয়, তবে তা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বার্তার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, ১৮০ দিনের মাথায় পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়টি সংবাদমাধ্যমেই এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দিন গণনার চেয়ে মুখ্য বিষয় হলো জনস্বার্থে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স এবং উন্নয়নমূলক লক্ষ্যমাত্রার কতটা অগ্রগতি হয়েছে তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বিভিন্ন দপ্তরের জবাবদিহিতা ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা জল্পনা-কল্পনার বাইরে প্রশাসনিক প্রয়োজনে যথাসময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করবে সরকার।


