রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

রাজনীতি ডেস্ক
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমীকরণ তৈরি হলেও এ পদে দলীয় প্রার্থী এখনো নির্ধারণ করেনি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের গুরুত্ব ও ভাবমূর্তি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বিস্তারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দলীয় প্রার্থীর নাম যথাসময়ে দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। বিএনপি সর্বদা দেশের সার্বিক স্বার্থে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করে থাকে এবং এবারও সেই নীতির কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর দেশের শীর্ষ এই সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় জাতীয় সংসদে সৃষ্ট শূন্যতায় স্পিকারের সার্বিক কার্যভার এবং সংসদ পরিচালনার কাজ পরিচালনা করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নির্বাচনী তফশিল ও নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের ভোটের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এই নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সভা অনুষ্ঠিত করেছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ শুরু হলেও রাজনৈতিক প্রধান দলগুলোর মধ্যে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তৎপরতা শেষ মুহূর্তে গড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের বর্তমান দলীয় আসন বিন্যাস ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় লাভের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত জোরালো। তবে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে, যিনি সংবিধান রক্ষায় নিরপেক্ষ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম রাজনৈতিক অলিন্দে ঘুরপাক খেলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির মন্তব্যের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে, দলটি কৌশলগত ও সাংবিধানিক বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইসি কার্যালয়ে প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়া হবে বলে সংসদ সূত্রে জানা গেছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির প্রার্থী ঘোষণা কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গতিশীলতা দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ