যুবকদের কর্মসংস্থানে গুরুত্বারোপ: দক্ষ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সরকারের কর্মপরিকল্পনা

যুবকদের কর্মসংস্থানে গুরুত্বারোপ: দক্ষ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সরকারের কর্মপরিকল্পনা

ক্রীড়া ও যুব ডেস্ক
দেশে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের পাশাপাশি প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো যুবসমাজকে কেবল উচ্চশিক্ষিত করাই নয়, বরং তাদের যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার সনদ নিয়ে তরুণদের বেকার থাকার প্রবণতা কমাতে সরকার কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার খেলাধুলাকে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে খেলার মাঠের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলার বিষয়টিকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থা ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তার সভাপতির বক্তব্যে সরকারের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া ভাতা প্রদান এবং বিদ্যমান খেলার মাঠগুলোর আধুনিকায়ন তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখা এবং একটি কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এবং কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল—‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’। বিতর্কে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ী দলের সদস্যদের মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই জনশক্তিকে দক্ষ করতে পারলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি সামাজিক অস্থিরতাও অনেকাংশে কমে আসবে। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এসব ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ