অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
লালমনিরহাট জেলাকে উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বুড়িমারী স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে লালমনিরহাটকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে লালমনিরহাট সার্কিট হাউসে ‘হামার লালমনি’ প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহা. রাশেদুল হক প্রধান। এতে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাট কেবল একটি প্রশাসনিক জেলাই নয়, এটি উত্তর জনপদের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্ভাবনা ও জনমানুষের সংগ্রামের প্রতীক। তিস্তা ও ধরলার অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি এবং লোকসংস্কৃতি লালমনিরহাটের একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি তৈরি করেছে। নদীমাতৃক এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা নদীর গতিপ্রকৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বুড়িমারীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি আরও প্রসারিত করা সম্ভব। এ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে লালমনিরহাটকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। সীমান্তবাণিজ্য, কৃষি উন্নয়ন, পর্যটনের প্রসার এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই জেলার রয়েছে বিপুল ও অব্যবহৃত সম্ভাবনা। সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি লালমনিরহাটের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সুরক্ষার ওপরও বিশেষ জোর দেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, লোকঐতিহ্য এবং নানা উৎসব আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। উন্নয়নের মূলস্রোতে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের শেকড়, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা রক্ষা করতে হবে। আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় যেন স্থানীয় ঐতিহ্য হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা লালমনিরহাটের সার্বিক উন্নয়ন, বুড়িমারী স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তিস্তা পারের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে জেলার পর্যটন খাতের বিকাশ এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, লালমনিরহাটের উন্নয়নে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই জেলার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সবশেষে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ঐতিহ্য এবং আধুনিক সম্ভাবনার সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে লালমনিরহাটকে একটি শান্তির লীলাভূমি ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, সমগ্র দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


