বিএনপিকে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তোলার কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তোলার কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান কারিগর হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বদা অক্ষুণ্ন রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাবে।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এক অকুতোভয় গণতান্ত্রিক নেত্রী, যিনি তাঁর সারাটি জীবন দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর নাম ও ভাগ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। নিজের আপসহীন নেতৃত্ব, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি বারবার দেশকে সংকটের আবর্ত থেকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনেছেন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা, দলকে সুসংগঠিত রাখা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি বিএনপিকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। বিএনপি আজ যে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তার মূল স্থপতি ও রূপকার আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ এবং দিকনির্দেশনা আমাদের নেতাকর্মীদের সবসময় সঠিক পথ প্রদর্শন করে আসছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের মূল শপথ হওয়া উচিত বিএনপিকে আরও একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও গণমুখী গণতান্ত্রিক দলে পরিণত করা, যা সত্যিকারের অর্থে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে দেশকে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় যে ‘ভিশন ২০৩০’ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের সুনির্দিষ্ট পথ দেখিয়ে গেছেন, তা পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এবং শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দেশবাসীর পক্ষ থেকেও তাঁদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্য সচিব মাওলানা অ্যাডভোকেট আবুল হোসেইন।
উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও আত্মিক কল্যাণ কামনা করেন।
রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ