জাতীয় ডেস্ক
১৮ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল ও সংকট পাঁচ মাসে বা দেড় বছরেও পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নানা ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিশৃঙ্খলা দূর করতে সরকারের জন্য সময় প্রয়োজন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে নানা ধরনের নীতিনির্ধারণী ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অথচ দীর্ঘ মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া অনিয়ম ও জঞ্জাল নির্দিষ্ট এই স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণ নিরসন করা বাস্তবসম্মত নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের কার্যক্রমে দেশবাসীর সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও পুনর্বচনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে বহু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর এসংক্রান্ত অসংখ্য আবেদন জমা পড়েছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হবে এবং বঞ্চিতদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার বিদায়ের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে একটি নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করে প্রক্রিয়াটি সীমিত করেছিল। কিন্তু বহু প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা এখনও গেজেটভুক্ত হননি। তাই প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তকরণের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তাদের তালিকাভুক্ত করা হবে।
বিগত ১৮ বছরে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এই দীর্ঘ সময়ে হত্যা, পঙ্গুত্ব এবং নানা নির্যাতনের শিকার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নির্যাতিত ব্যক্তিরা আবেদন করার মাধ্যমে যথাযথ প্রতিকার ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন।
সভায় দলের নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো ধরনের লবিং, গ্রুপিং বা মতভেদ দলের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে দেওয়া যাবে না। সব ধরনের সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা ও সেলিনা সুলতানা নিশীতা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং কৃষক দলের সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।


