চলতি অর্থবছর থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা, চূড়ান্ত খসড়া যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

চলতি অর্থবছর থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা, চূড়ান্ত খসড়া যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়

জাতীয় ডেস্ক
চলতি অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হবে। এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের মধ্যেই নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের রেওয়াজ থাকলেও গত সরকার বিগত এগারো বছরেও কোনো নতুন পে স্কেল কার্যকর করেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানানো হচ্ছিল।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত সন্তুষ্টি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দ্রুততম সময়ে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইতিমধ্যে সচিব কমিটি এ সংক্রান্ত সুপারিশ ও খসড়া প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে। অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে প্রস্তাবনাটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবে। মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই এটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাবনায় নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে যৌক্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টিকে এই খসড়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে, সে বিষয়টিও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৮ লাখ চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা বৃদ্ধির এই অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করা সাময়িকভাবে বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকার এই অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো বেতন স্কেল ঘোষণা না করায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আর্থিক অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। আসন্ন এই পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ