ভানুয়াতুতে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প, রিং অব ফায়ারে বাড়ছে ভূতাত্ত্বিক তৎপরতা

ভানুয়াতুতে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প, রিং অব ফায়ারে বাড়ছে ভূতাত্ত্বিক তৎপরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় আজ রোববার এই কম্পন অনুভূত হয়। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনামি সতর্কতাও জারি করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা পোর্ট অলরি থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। উৎপত্তিস্থলে এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার নিচে। ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হওয়ায় এর ভূ-উপরিস্থ ধ্বংসক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা।
ভানুয়াতুর জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে পানির অস্বাভাবিক কোনো আচরণ লক্ষ্য না করায় উপকূলীয় বাসিন্দাদের জন্য জরুরি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
ভৌগোলিকভাবে ভানুয়াতু অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভূমিকম্পপ্রবণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা ‘অগ্নিবলয়’-এর ওপর অবস্থিত। ঘোড়ার খুরের আকৃতির এই অঞ্চলে ভূ-অভ্যন্তরের টেকটনিক প্লেটগুলোর ক্রমাগত ঘর্ষণ এবং সঞ্চালন ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে প্রায়শই শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে থাকে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বৈশ্বিক টেকটনিক বেল্টে তীব্র ভূকম্পনজনিত অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভানুয়াতুতে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বিশ্বের অপর প্রান্তে ইন্দোনেশিয়া ও কলম্বিয়ায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার ভোরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই মূল কম্পনের পর সেখানে শতাধিক শক্তিশালী পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার সর্বশেষ তথ্যমতে, এতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ধসে পড়েছে। সেখানে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, গত সোমবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। দেশটির প্রধান শহর কালি, পেরেইরা এবং সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু বহুতল ভবন, সংযোগ সড়ক এবং সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯০ জনে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ১৪০ জন এবং প্রায় চার হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভারী যন্ত্রপাতি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল নিয়ে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় ভূতাত্ত্বিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। টেকটনিক প্লেটের এই ধরনের ধারাবাহিক সক্রিয়তা বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি প্রস্তুতি কাঠামোর সক্ষমতাকে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ