মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দি করলে পুরস্কারের ঘোষণা ইরানি সেনাপ্রধানের

মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দি করলে পুরস্কারের ঘোষণা ইরানি সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যেকোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে হত্যা অথবা জীবিত বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কোনো নারী যদি এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, তবে তাকে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার প্রদান করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি সামনে এসেছে।
মেজর জেনারেল আমির হাতামি এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং সরাসরি এ ধরনের আর্থিক সহায়তায় অংশ নেওয়ার জন্য সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক অনুরোধ ও আবেদন আসছিল। জনগণের এই প্রবল আগ্রহ ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের কথিত বা পরিকল্পিত অভিযানগুলো ঠিক কখন, কোথায় বা কোন পরিস্থিতিতে চালানো হতে পারে, সে বিষয়ে ইরানি সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়নি। কৌশলগত কারণে স্থান ও কালের বিষয়টি এখনও সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও দেশটির মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে মার্কিন কোনো স্থলবাহিনীর আনুষ্ঠানিক মোতায়েন কিংবা সরাসরি অবস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইরানের অভ্যন্তরে একটি সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে সেই উড়োজাহাজে থাকা মার্কিন পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছিল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক হুমকির ফলে দুই দেশের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই চরম বৈরী রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলজুড়ে সামরিক মহড়া এবং ড্রোন ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের নানা ঘটনা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সরাসরি বিদেশি সেনাসদস্যদের ওপর লক্ষ্য নির্ধারণ করে আর্থিক পুরস্কারের মতো প্রকাশ্য ঘোষণা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এটি কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও সংকুচিত করে সম্ভাব্য বহুমুখী সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা ও আশপাশের কৌশলগত অবস্থানে থাকা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাহিনীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ