দেশজুড়ে হামের প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত বেড়ে ৮২৯

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত বেড়ে ৮২৯

জাতীয় ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আটশো ছাড়িয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জনে। একই সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হওয়া হামরোগীর সংখ্যা ৬৪ জন বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১৮ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ দ্রুত জটিল রূপ ধারণ করতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এবং নিউমোনিয়া কিংবা তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিলে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত (১৫ মার্চ থেকে ২১ আগস্ট) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮২৫ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৮ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারিতে রয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে তিন শিশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকা প্রদান নিশ্চিত করা। যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি বা টিকাদানের বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি, হামের উপসর্গ দেখা মাত্রই বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো দেশের সব অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ