রাজবাড়ীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ: দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রাজবাড়ীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ: দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের প্রসূতি কণিকা মন্ডল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবি জোরালো হয়েছে। ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের সময় পেটে গজ রেখে দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই প্রসূতি। এ ঘটনা দেশজুড়ে চিকিৎসাসেবায় অবহেলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবারটির বাড়িতে যান। এ সময় তিনি মৃত কণিকা মন্ডলের স্বামী প্রশান্ত মন্ডলসহ শোকাহত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পরিদর্শনের সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিফ উল হাসান মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে প্রসববেদনা নিয়ে কণিকা মন্ডলকে ফরিদপুরের ‘শমরিতা হাসপাতাল’ নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তান প্রসব করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার পেটে তীব্র ও অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানী ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, আগের অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেটের ভেতরে গজজাতীয় কোনো বস্তু ফেলে দেওয়া হয়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে আরেকটি অস্ত্রোপচার করে সেই বস্তু অপসারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট ভাষায় জানান, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যা ও অনিয়মগুলো দ্রুত দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এছাড়া শোকাহত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের যথাসম্ভব সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ও অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি ক্লিনিক এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে হাতুড়ে বা অপ্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর মতো গুরুতর অপরাধের কারণে প্রায়ই এ ধরনের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে থাকে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষী চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলার কারণে কোনো মায়ের প্রাণ হারাতে না হয়।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ