ই-জিপির আওতায় শতভাগ সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বিপিপিএ সিইও

ই-জিপির আওতায় শতভাগ সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বিপিপিএ সিইও

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ই-জিপি থেকে অব্যাহতি চেয়ে কোনো সংস্থাকে অফলাইন ক্রয়ের জন্য কোনো ধরনের ‘ব্ল্যাংকেট’ বা সার্বিক অনুমতি দেওয়া হবে না।
গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে (ইএসসিবি) চার সপ্তাহব্যাপী ‘বেসিক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেন্ট (পিপিএম)’ প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘প্রকিউরমেন্ট মডার্নাইজেশন টু ইমপ্রুভ পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি (পিএমআইপিএসডি)’ প্রকল্পের আওতায় বিপিপিএ এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। গত ৮ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ আগামী ১ সেপ্টেম্বর শেষ হবে, যেখানে চারজন নারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ২৮ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বিপিপিএর সিইও জানান, অফলাইন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ক্রয় কার্যক্রম চালাতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান অফলাইনে ঠিক কতটি ক্রয় প্যাকেজ সম্পন্ন করবে এবং কোন নির্দিষ্ট তারিখ থেকে তারা আবার ই-জিপিতে ফিরে আসবে, তা আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। অন্যথায় যত্রতত্র অফলাইন ক্রয়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে সিইও সরকারি ক্রয়ে ‘ফিট ফর পারপাস’ এবং ‘ভ্যালু ফর মানি’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেকসই ক্রয়ের ক্ষেত্রে কেবল সর্বনিম্ন দর বা দামই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। দেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে টেকসই সরকারি ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময় তিনি টেকসই ক্রয়ের তিনটি মূল ভিত্তি—মানুষ, পরিবেশ এবং মুনাফা—এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি ক্রিয়াকলাপে ‘৪ আর’ নীতি অর্থাৎ রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল ও রিকভার বা কমানো, পুনর্ব্যবহার, পুনচক্রায়ন এবং পুনরুদ্ধার নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে বিপিপিএর পটভূমি, কার্যাবলি, পরিচালনা পর্ষদ, ই-জিপির অগ্রগতি, এবং এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বিপিপিএ কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং হেল্প ডেস্ক, রিভিউ প্যানেলসহ ই-জিপি ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রমের ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন।
এ সময় বিপিপিএর প্রশিক্ষণ পরিচালক শেখ মুহাম্মদ রেফাত আলী প্রশিক্ষণার্থীদের সংস্থার বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখান এবং তাদের হাতে বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে দেন। এছাড়া বিধি পরিচালক মাসুদ আক্তার খান ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন চিঠির বিষয়ে বিপিপিএর মতামত প্রদানের প্রক্রিয়া এবং এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতির কথা জানান। পরিচালক অপর্ণা বৈদ্য প্রকিউরমেন্ট পোস্ট-রিভিউ বা ক্রয়-পরবর্তী পর্যালোচনার উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন এবং পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহমেদ খান রিভিউ প্যানেল ও ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের কার্যপ্রণালি তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ব্যবস্থার শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপচয় রোধ পাবে এবং ক্রয় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। বিপিপিএর এই কঠোর অবস্থান সরকারি দপ্তরের ক্রয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ