আইন আদালত ডেস্ক
বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অংশ হিসেবে তাকে ট্র্যাইব্যুনালে আনা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ তাকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করবে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ট্র্যাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রসিকিউশন বিষয়টি নিশ্চিত করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ও তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও এই মামলার সার্বিক তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামা সময়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা এম ইলিয়াস আলী ও তার চালকের হঠাৎ অন্তর্ধান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবার, সহকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি ও তদন্তের কথা বলা হলেও তাদের বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য আজও উদঘাটিত হয়নি।
দীর্ঘ এই সময় ধরে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি অমীমাংসিত থাকলেও বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তদন্তে সামরিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসার পর ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং পরবর্তীতে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমে একটি নতুন ও দৃশ্যমান মোড় এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আনুষ্ঠানিক আবেদনের পর আদালত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন গুমের মামলার আইনি প্রক্রিয়া নতুন গতি লাভ করল।


