অপরাধ ডেস্ক
গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষকদলের এক স্থানীয় নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন আরএকে সিরামিক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া নেতা গুলিবিদ্ধ না হলেও আকস্মিক আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই রাজনৈতিক কর্মীর নাম জজ মিয়া। তিনি গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের প্রয়াত জনাব আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার বিবরণ দিয়ে জজ মিয়া জানান, শনিবার রাতে তিনি ফরিদপুর গ্রামে অবস্থিত তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। রাত ১০টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিন ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি দাবি করেন, মোটরসাইকেল আরোহীরা প্রথমে একটি লেজার লাইটের মাধ্যমে কার্যালয়ের ভেতর তাকে শনাক্ত করে এবং সরাসরি তাকে নিশানা করে। এর পরপরই কার্যালয়ের ভেতর লক্ষ্য করে পরপর দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে মহাসড়ক ধরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলির তীব্র শব্দ ও আক্রান্ত নেতার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেখান থেকে তাকে আতঙ্কগ্রস্ত ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম এবং শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন একটি ব্যস্ত এলাকায় এমন আকস্মিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।


