ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশে ফুটবলের সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো পর্যবেক্ষণে ঢাকা সফরে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি প্রতিনিধিদল। এ সফরে তারা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্রাজিলের ভারতীয় উপমহাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলটির ভারতে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দেশটির অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা যাচাই করতে একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে অঞ্চলটি সফর করছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশেও তাদের পরিদর্শনের পরিধি বিস্তৃত করেছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছে বিকেলের দিকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সার্বিক পরিস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করবেন। মাঠের বর্তমান অবস্থা, ড্রেসিংরুম, দর্শক ধারণক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো খতিয়ে দেখবে এই প্রতিনিধিদল।
ভারতে ব্রাজিল দলের ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা থাকলেও হঠাৎ তাদের ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, এই পরিদর্শনের সুনির্দিষ্ট তাৎক্ষণিক কোনো এজেন্ডা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আসেনি। মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ফুটবল কাঠামোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং ঢাকার ভেন্যুর সার্বিক সক্ষমতা নিরূপণ করা।
সফরকালে ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে ফুটবলীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, একাডেমি পর্যায়ে খেলোয়াড় ও কোচদের পারস্পরিক বিনিময় এবং ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরই মূলত পরিষ্কার হওয়া যাবে ভবিষ্যতে ব্রাজিল ফুটবল দলের কোনো দল ঢাকায় আসবে কি না কিংবা যৌথ কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে কি না।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ দলগুলোর আগমনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১১ সালে ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ঢাকায় এসেছিল। সে সময় লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। ওই ম্যাচটি দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করলেও আয়োজক বাফুফেকে বিপুল আর্থিক দায়ভার বহন করতে হয়েছিল। ম্যাচটি আয়োজনের পেছনে যে বিশাল অঙ্কের ব্যয় হয়েছিল, তার ফলে সৃষ্ট আর্থিক ঋণের বোঝা ফেডারেশনকে দীর্ঘ সময় বহন করতে হয়েছে, যার প্রক্রিয়াগত নিষ্পত্তি এখনও পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল বা সমমানের কোনো শীর্ষ আন্তর্জাতিক দলের ম্যাচ আয়োজন দেশের ফুটবলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার সুযোগ তৈরি করে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এ ধরনের মেগা ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা এবং আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাফুফে ও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের মধ্যকার আসন্ন আলোচনা থেকে দেশের ফুটবলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কোনো উন্নয়নমূলক সহযোগিতার রূপরেখা বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্টদের।


