আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ: দ্রুত বিচার ও সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ: দ্রুত বিচার ও সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তার ঘাটতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধমূলক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার দাবি জানান। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চার সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেশাজীবীদের ওপর হামলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন তিনি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। একটি পরিবারের সব সদস্যকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত নৃশংস ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং নেপথ্যে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
রংপুরের ঘটনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া আরো কিছু সহিংস ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজধানী ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে বিদেশি মুদ্রায় চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে চাঁদা না পেয়ে তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। একই ধরনের চাঁদাবাজি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহের এক পশুচিকিৎসক। এসব ঘটনা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক সুরক্ষার ওপর চরম আঘাত বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিটি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা না গেলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। এছাড়া বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে হতাশ করছে, যা আইনি ব্যবস্থার প্রতি নাগরিক আস্থা কমিয়ে দেয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। জামায়াত আমির অপরাধ প্রতিরোধে নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ