আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী প্রতি মাসে গড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা হারাচ্ছে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষয়িষ্ণু পরিস্থিতি এবং সেনা ঘাটতি মোকাবিলায় রাশিয়ার সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন সেনা নিয়োগ করা হলেও বিভিন্ন ফ্রন্টে হতাহতের হার তার চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রতি মাসেই বড় ধরনের সেনাগাঠতি তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে দেখা গেছে, এই জনবল ঘাটতির কারণে রুশ ভূখণ্ড ও সামরিক কমান্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং জনবলক্ষয় পুষিয়ে নিতে নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশ করা রুশ প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে ২০২২ সালের শরতে হওয়া সেনা সমাবেশের পর দেশের একটি বড় অংশ দক্ষ জনবল হারিয়েছিল, যা দেশটির শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
সেনা ঘাটতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থতার কারণে কৌশলগতভাবে বিকল্প পদক্ষেপের আশ্রয় নিচ্ছে মস্কো। এর অংশ হিসেবে ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ানো হয়েছে বলে পশ্চিমা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে দেশটির মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে রুশ বাহিনী। বিশেষ করে কিয়েভের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রুশ বাহিনীর এই হামলার জবাব দিতে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কিয়েভ সফর করে ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা খাতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউক্রেনের পক্ষে জোরালো কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনেও ইউক্রেন সংকট এবং দেশটির নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানকারী পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই হুমকি সত্ত্বেও সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম এবং মস্কো সাধারণত ন্যাটো জোটের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার নীতি বজায় রেখেই এগোচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বহুমুখী উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ইউক্রেন সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।


