আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুতের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়ন বা তার বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুতের ওপর বেসরকারি তেল কম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে বলে জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই দেশের জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পথ উন্মুক্ত হবে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে এই রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কম্পানি যুক্ত রয়েছে এবং ওয়াশিংটন ঠিক কী প্রক্রিয়ায় এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এল, যখন ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জ্বালানি কম্পানির সঙ্গে নতুন ইজারা ও উৎপাদনের অধিকার দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল খাতের ওপর দীর্ঘকাল ধরে কঠোর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল মজুতদার দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগের ফলে দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলে ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি দুই দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এর আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাছাড়া, ভেনেজুয়েলার পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন শোধনাগারগুলোর জন্য ভারী অপরিশোধিত তেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।


