ধর্ম ডেস্ক
২০২৭ সালে পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়সীমা চলমান থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মধ্যে ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক হজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিবন্ধনে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত হজ কোটা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৭ সালের হজের জন্য এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে মাত্র ১ হাজার ২১৭ জন প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৯৩ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এর বিপরীতে প্রাক-নিবন্ধনের সংখ্যা বেশ বড়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৫৯৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬০ হাজার ১২৯ জন প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
সৌদি সরকারের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কার্যক্রম গত ২৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে অতীতে নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানোর নজির রয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী, হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রথমে প্রাক-নিবন্ধন করতে হয়। এই প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় হজ ডাটাবেসে স্থান নির্ধারিত হয়। এরপর প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নির্ধারিত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয় এবং পরবর্তীতে হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হয়। প্রাক-নিবন্ধিত ও প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হজের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে সম্ভাব্য যাত্রীদের অনেকে প্রাথমিক নিবন্ধনে অংশ নিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহীরা সরকারি ব্যবস্থাপনা অথবা সরকারের অনুমোদিত যেকোনো বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূর্ণ না হলে তা সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


