আইন আদালত ডেস্ক
সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি পৃথক মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অন্য একটি মামলার ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ ও কল ডেট রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেনাবাহিনীর এক বরখাস্ত কর্মকর্তা এবং এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা এই নতুন তথ্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। এর আগে এদিন বিকেলে ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নিহত সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ ও মামলার বাদী নওশের আলী রোমান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা যায়, একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গতানুগতিক ধারার বাইরে ডিজিটাল ডিভাইস ও সার্ভার পরীক্ষা করা হয়। এ সময় একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে মুছে ফেলা ফাইল রিকভার এবং প্রিন্টেড নথিপত্র বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তানভীর জোহা জানান, জব্দ করা ওই ডিভাইসের তথ্য ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে যে, ঘটনার দিন বা তার পূর্বে সংশ্লিষ্ট মহলে এ বিষয়ে পূর্বভাস ছিল। এছাড়া নিহতদের নিকট তৎকালীন সময়ের কোনো স্পর্শকাতর সরকারি নথি, ডিস্ক বা মেমোরি কার্ড জাতীয় ডিভাইস ছিল যা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, এই হত্যা মামলাটি মূলত একটি পৃথক ফৌজদারি অপরাধ এবং এর বিচার প্রচলিত দায়রা আদালতে হওয়ার কথা থাকলেও, অন্য মামলার সূত্র ধরে প্রাপ্ত এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লুগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক সত্যতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর তা মূল তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে ন্যস্ত করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ২৭ আগস্ট আদালত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। ১৪ বছর ধরে বিচারহীন থাকা এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানে নতুন এই সূত্র পাওয়ার পর দেশজুড়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


