রাজশাহীর হরিয়ানে ঢালারচর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

রাজশাহীর হরিয়ানে ঢালারচর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে রাজশাহী ও পাবনার মধ্যে চলাচলকারী ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে হরিয়ান স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শিডিউল বিপর্যয়সহ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাবনা থেকে ছেড়ে এসে রাজশাহী অভিমুখে যাত্রা করছিল। পথিমধ্যে হরিয়ান এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের একটি বগির (আট নম্বর বগি) দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ট্রেনটির গতি কম থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হঠাৎ ট্রেন থেমে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রেনের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে সড়কপথে বা অন্য মাধ্যমে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্ধারকারী দল ও প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং রাজশাহী অভিমুখী বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। এতে স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, এই ঘটনার পর রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ছাড়ার সময় পেছাতে হতে পারে। একইভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনগুলোও বিভিন্ন জংশনে আটকা পড়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব লাইন সচল করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম জানান, ঠিক কী কারণে ট্রেনটির বগি লাইনচ্যুত হয়েছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে খুব শীঘ্রই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং এ ঘটনায় কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না তা স্পষ্ট হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেললাইন ও ফিটিংসের ত্রুটি, অতিরিক্ত গরম বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। রেল যোগাযোগ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ জাতীয় দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত ট্র্যাক মেইনটেন্যান্স ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ