জাতীয় ডেস্ক
সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো উদীয়মান বহুমুখী নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নজরদারি ও সামুদ্রিক পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার আনীত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশীয় শিল্প ও গবেষণার মাধ্যমে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বিশাল সমুদ্রসীমায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো অবৈধ তৎপরতা রোধে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদার করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধিবেশনে বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে আসছে সশস্ত্র বাহিনী। মহিলা আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা রক্ষার্থে নির্বাচনকালীন সময়ে সার্বিক নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়ে থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল’ প্রবিধানমালার আওতায় দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবসৃষ্ট সংকট কিংবা ক্রান্তিকালে অসামরিক প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করে থাকে সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২৯ ধারার বিধান অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং জননিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আকাশপথের সুরক্ষা ও সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) নিরাপত্তার জন্য ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি অচিরাচরিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা খাত আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা করছেন।


