আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া উগান্ডার তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ-এর মরদেহ গত শুক্রবার বিশেষ বিমানে দেশটির এনতেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন রাজা হিসেবে পরিচিত এই রাজমুকুটধারী গত ২৭ আগস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় ও রাজকীয় মর্যাদায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি সশরীরে উপস্থিত থেকে মরহুম রাজার কফিন গ্রহণ করেন। এ সময় দেশ ও তোরো রাজ্যের পতাকায় মোড়ানো কফিনের ওপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। এরপর সামরিক হেলিকপ্টারযোগে কফিনটি তোরো রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। তোরো রাজ্যের রাজপরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন রাজা ওয়ো নাইম্বা। শৈশবে রাজকীয় পোশাক ও মুকুট পরিহিত অবস্থায় সিংহাসনে বসে খেলনা নিয়ে খেলার সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। এত অল্প বয়সে ঐতিহ্যবাহী রাজপরিবারের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ায় তিনি উগান্ডার জনগণের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।
উল্লেখ্য, উগান্ডা একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচালিত হলেও ঔপনিবেশিক আমলের পূর্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্রগুলো দেশটির সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থায় এখনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে আসছে। যদিও এসব রাজপরিবারের সরাসরি কোনো রাজনৈতিক শাসনক্ষমতা নেই, তবুও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের সামাজিক মর্যাদা অত্যন্ত সুদৃঢ়। তোরো রাজ্যের রাজা হিসেবে ওয়ো নাইম্বারের প্রয়াণে সমগ্র উগান্ডাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
জীবনদ্দশায় রাজা ওয়ো নাইম্বা শুধু রাজকীয় দায়িত্ব পালনই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং বিভিন্ন সামাজিক ও জনহিতকর কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে এইচআইভি ও এইডস রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে বিশেষ অবদান রাখেন। এই মহৎ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতিসংঘের একজন শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার এই অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
এদিকে তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রোমিরে আকিকি এর আগে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, অবিবাহিত রাজা ওয়ো নাইম্বা একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন। এর ফলে তোরো রাজ্যের ঐতিহাসিক রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। রাজার এই আকস্মিক প্রয়াণে তোরো রাজ্যে শোকের মাতম চলছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় রাজাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজপরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


