সারাদেশ ডেস্ক
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজু মোল্লা নামের এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানূর রহমান এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রাজু মোল্লা উপজেলার ধুলজুড়ী গ্রামের পিয়ার মোল্লার ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাজু মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় গোপনে মাদকদ্রব্য সেবন এবং বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তার এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ার উপক্রম হয়েছিল এবং তার পরিবারেও তীব্র অসন্তোষ ও আর্থিক ক্ষতি দেখা দিয়েছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোপনীয় তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচার কার্যক্রম শেষে তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বলবৎ রয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীর সঙ্গেই বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা ও সেবনের মতো অপরাধ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি সমাজে চুরি, ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হার বৃদ্ধি পায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ ধরনের দ্রুত বিচার অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মাদকের শেকড় উৎপাটন করতে হলে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।


