অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আরও প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৯০ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার পেছনে প্রধানত দুটি চালিকাশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে প্রবাসীরা ৪৩ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। প্রতি মার্কিন ডলার ১২৩ টাকা বিনিময় হার ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার মোট পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার অধিক। এই গতিশীল রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর পর্যাপ্ত সক্ষমতা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বহির্বিশ্বের সাথে বাণিজ্যে দেশের ঋণমান ও বৈদেশিক আস্থার ক্ষেত্রকে আরও প্রশস্ত করবে।


