গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন ৭ দফা নির্দেশনা: লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়াই হবে প্লট ও ফ্ল্যাটের হস্তান্তর

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন ৭ দফা নির্দেশনা: লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়াই হবে প্লট ও ফ্ল্যাটের হস্তান্তর

জাতীয় ডেস্ক

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রয়, দান, হেবা, নামজারি, হস্তান্তর এবং ঋণ অনুমতির ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেওয়ার প্রথা বাতিল করেছে। এ বিষয়ে সোমবার (১০ নভেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান বা হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর, দলিল সম্পাদন বা বাতিল, আম-মোক্তার দলিল এবং ঋণ গ্রহণের জন্য লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আর প্রয়োজন হবে না। তবে, প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবহারের শ্রেণির পরিবর্তন এবং মাস্টার প্ল্যানের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রথা বহাল থাকবে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়বস্তু

১. লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের নামজারি, হস্তান্তর এবং ঋণ অনুমতির জন্য আর লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিতে হবে না। তবে প্লট বা ফ্ল্যাটের বিভাজন, একত্রীকরণ বা ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।

  1. ফি প্রদান ও রেজিস্ট্রেশন
    দলিল সম্পাদন বা নামজারি সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুকূলে ফি প্রদান করতে হবে। আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ২ শতাংশ এবং শুধুমাত্র প্লট বা ভূমির ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
  2. অবিকল নকল দাখিল
    প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর, দলিলের একটি সার্টিফাইড কপি এবং নামজারি রেকর্ড লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নকল দাখিল না করলে প্রতিদিন ৫০ টাকা হারে জরিমানা আরোপ করা যাবে।
  3. মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ
    লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দলিল সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে তা না করা হয়, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  4. লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া পরিবর্তন নিষিদ্ধ
    লিজ দলিলের মেয়াদ শেষে (৯৫ বছর পর) স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যাবে এবং এই সময়ের মধ্যে কোনো পরিবর্তন বা হস্তান্তর ফি আদায় করা হবে না। তবে প্লট বা ফ্ল্যাটের বিভাজন বা একত্রীকরণ, মাস্টার প্ল্যানের পরিবর্তন বা ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন অনুমোদন ছাড়া করা যাবে না।
  5. নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রথা বহাল
    যেসব প্লট বা ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে, অথবা বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নেওয়ার প্রথা এখনও বহাল থাকবে।
  6. তফশিল প্রকাশ
    প্রজ্ঞাপনের অধীনে যে সব প্লট বা ফ্ল্যাটে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না, সেগুলোর তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তবে, এ তালিকায় পরবর্তীতে ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন করা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই নতুন প্রজ্ঞাপনের লক্ষ্য হলো প্লট ও ফ্ল্যাটের হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করা, লিজ গ্রহীতাদের দুর্ভোগ কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। এই নির্দেশনাগুলোর মাধ্যমে ত্রুটি বা জটিলতা দূর করতে এবং সেবা প্রদান কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি করতে চাইছে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া, লিজদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ আসার ফলে নাগরিকদের জন্য একটি বেশি সুবিধাজনক এবং ঝামেলামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এভাবে, এ পদক্ষেপ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয়