অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়েরকৃত মামলা এক মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়েরকৃত মামলা এক মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে দায়ের হওয়া হাজার হাজার মামলা আগামী এক মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হত্যা মামলাসহ অন্যান্য অভিযোগগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রিনিং বা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযোগের ভিত্তি খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে যেসকল হত্যা মামলা বা ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। কোনো সাংবাদিক যাতে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে অযথা আইনি জটিলতায় না পড়েন, সরকার সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর।

সম্মেলনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা তথাকথিত ‘গায়েবি মামলা’ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা ভিত্তিহীন মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এসব মামলার আইনি দিক বিশ্লেষণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের মামলার তালিকা পর্যালোচনা করেন এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের আইনি প্রতিকারের পথ সুগম করেন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সাধারণত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গণহারে মামলা দায়েরের যে প্রবণতা দেখা যায়, তা নিরসনে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা যেমন সহজ হবে, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদী হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার পথও প্রশস্ত হবে।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের এই অধিবেশনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে অধিবেশনে জানানো হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই মামলা পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসকদের তৎপর থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ