নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ: ১৫ লাখ সরকারি কর্মজীবীর বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির পরিকল্পনা

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ: ১৫ লাখ সরকারি কর্মজীবীর বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির পরিকল্পনা

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন কাঠামো পুনর্গঠনে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে গঠিত পে স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশ তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের আর্থিক সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করতে পারে অর্থ বিভাগ। এককালীন বিশাল অংকের আর্থিক চাপ এড়াতে আগামী তিন বছরে এই নতুন স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হতে পারে। প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পে স্কেলের প্রায় ৩৩ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন এই পে স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের পেনশনভোগীদের জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমানে যারা মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে পেনশনের পরিমাণ প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার হতে পারে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ। এছাড়া ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক একটি নতুন কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীরা ৫ হাজার টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পাবেন। বয়োজ্যেষ্ঠদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই বর্ধিত হারের সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে নতুন পে স্কেল ঘোষণা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তবে এই বিশাল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ সংস্থান করা এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশগুলো প্রস্তুত করে দ্রুতই সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেবে বলে জানা গেছে। সরকার এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত কর্মরত সকল স্তরের সরকারি জনবল এবং অবসরপ্রাপ্ত বিশাল একটি জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ