আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও প্রায় ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিকম্পে অন্তত ২৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মহাপরিচালক কোটুওয়েগোদা জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪৩ হাজার ৯৯৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি শ্রীলঙ্কায় গত বুধবার থেকে প্রভাব ফেলতে শুরু করে এবং টানা বৃষ্টিতে সেখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায়, বিশেষ করে সুমাত্রা প্রদেশের মধ্য তাপানুলি ও আশপাশের অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে বর্ষার অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সুমাত্রার নদীগুলো ভাঙন ধরেছে এবং পানি পাহাড়ি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বহু মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এতে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, বন্যায় আক্রান্ত স্থানগুলোর রাস্তাঘাট ভেসে বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা বহু এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ ভারতের দক্ষিণের তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই ইতিমধ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় এবং বর্ষার অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে অব্যাহতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি এবং সাধারণ জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। নদী এবং পাহাড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে উল্লেখযোগ্য সময় ও সম্পদ প্রয়োজন হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও দুর্যোগ প্রতিরোধমূলক নীতি গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ কার্যক্রম, আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে রাতদিন কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।


